1. admin@thedailyintessar.com : rashedintessar :
সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

সৌন্দর্যের লীলাভূমী : নিঝুম দ্বীপ

জাবের হোসেন :
  • Update Time : শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

একদিকে মেঘনা নদী আর তিনদিকে বঙ্গোপসাগর ঘিরে রেখেছে অগণিত শ্বাসমূলে ভরা কেওড়া বাগানের এক সবুজ দ্বীপকে। দিনে দুবার জোয়ার-ভাটার এই দ্বীপের এক পাশ ঢেকে আছে সাদা বালুতে, আর অন্য পাশে সৈকত। এখানে শীতকালে বসে হাজার পাখির মেলা, বন্য কুকুর আর সাপের অভয়ারণ্য এই বনের সবুজ ঘাস চিরে সারা দিন দৌড়ে বেড়ায় চিত্রা হরিণের দল। এই হলো নিঝুম দ্বীপ।

(নিঝুম দ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মাইলের পর মাইল জুড়ে কেওড়া বন আর সেই বনের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চিত্রা হরিণ)

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমন সম্পর্কিত কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য।

১) ঢাকা থেকে নিঝুমদীপে ২ ভাবে যাওয়া যায় – * সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে এবং * বাসে নোয়াখলী হয়ে।বাসে করে গেলে প্রথমে ‘বিলাস’ বাসে যেতে হবে নোয়াখালির সোনাপুরে, সেখান থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে করে (৪০০-৪৫০টাকা) নামতে হবে চরজব্বার ঘাটে। সেখান থেকে সি-ট্রাক ও ট্রলার ছারে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে, ট্রলার যাত্রীদেরকে নামাবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে, সেখান থেকে বাসে (৪০ টাকা) বা বেবিটেক্সিতে (৪০০-৫০০) করে যেতে হবে জাহাজমারা বাজারে। জাহাজমারা বাজার থেকে নিঝুমদীপ ঘাটে, সেখান থেকে ট্রলারে আধাঘন্টা লাগবে নিঝুমদীপের “উঁচার বাজারে” পৌছতে। জাহাজমারা থেকে “মেঘভাষাণ” হয়েও যাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ট্রলার নামাবে “নিচার বাজারে”, এক্ষেত্রে সময় লাগবে ১০ মিনিট…

২) লঞ্চে গেলে ঢাকার সদরঘাট থেকে যেতে হবে – ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য মোট ২ টা লঞ্চ বরাদ্দ রয়েছে” – এর পরে একটার নাম “টিপু ৫” অন্যটা “পানামা”। এদের মধ্যে প্রতিদিন ১টা করে লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশ্যে সদরঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৫টায় ছেড়ে যায়। সেটি হাতিয়ার তজুমদ্দিন ঘাটে পৌঁছবে পরদিন সকাল সাড়ে ৯ টায়। তজুমদ্দিন ঘাট থেকে বাসে (৩০ টাকা), বেবি টেক্সিতে (৩৫০ টাকা) বা মটর সাইকেলে (৬০০-৭০০ পার হেড) জাহাজমারা বাজার যেতে পারেন।

৩) লঞ্চে গেলে ভাড়া পড়বে- ডেকে ৩৫০টাকা (আনুমানিক) কেবিন (1000/সিঙ্গেল, 2000/ডাবল, 2500/ভিআইপি)—- হাতিয়া পর্যন্ত, এরপর জাহাজমারা ও নিঝুমদীপের জন্য আবার মানিব্যাগে হাত দিতে হবে।

৪) বর্ষাকালে গেলে পুরা হাটু সমান কাদা পাবেন + পুরা দ্বীপের এমাথা ও মাথা আপনাকে হেঁটে পার হতে হবে, রাস্তায় কিছু চলতে পারবেনা, কাদাতে দেবে যাবে। তবে মাছ খেতে পারবেন প্রচুর, ইলিশ তো হাতের এপিঠ ও পিঠ…শীত কালে গেলে রাস্তাঘাট সব ভালো পাবেন, খালের মধ্যে পানি কম পাবেন, ফলে বনের মধ্যে যেকোনো জায়গায় যেতে পারবেন, বিকেলে হরিণের পাল দেখতে পারবেন, সি-বিচ টা অনেক শুকনো পাবেন, সাগর নীল পাবেন — সমস্যা একটাই তখন খাবারের দাম অনেক বেড়ে যাবে।শরতকাল আর বসন্তকাল বেস্ট…

৫) খাওয়া দাওয়ার জন্য নিঝুমদীপের উঁচার বাজারে কয়েকটা হোটেল আছে – প্রচুর দাম রাখবে, প্রচুর বলতে ভয়াবহ একটা ইলিশ মাছের টুকরো ১২০ টাকার বেশী(৬) দর্শনীয় যায়গা বলতে নিঝুমদীপের আশে পাশে কয়েকটা দ্বীপ আছে, একটার নাম কমলার দ্বীপ, সেখানের কমলার খালে অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যায় এছাড়াও আশে পাশের দ্বীপগুলো সুন্দর পুরো দ্বীপটা হেঁটে হেঁটে ঘুরে আশা যায়, মন ভরে যাবে…

** একটা নৌকা ভাড়া করে চৌধুরী খালে চলে যাবেন। সেখানে নেমে ঘন্টা খানেক হাঁটলেই বনের মধ্যে হরিন এর পালের দেখা পেতে পারেন।**চোয়াখালি বলে একটা সুন্দর বিচ আছে।** ম্যানগ্রোভ বন…।

৭) রাতে থাকার জন্য সরকারী রেস্ট হাউজ আছে, ভাড়া পরবে পার নাইট ৮০ টাকা (বেশীও হতে পারে) ! এছাড়াও কিছু হোটেল মনে হয় খুলেছে, ২০০/৪০০ এর মধ্যে থাকা যাবে বলে মনে হয়।** অবকাশ (নিঝুম রিসোর্ট, নামার বাজার) এ থাকা ভাল (অনেকেই সাজেস্ট করে)।** নামার বাজার এর কাছে রফিক এর রিসোর্ট।

৮) ক্যাম্পিং এর সুবিধা ভরপুর পুরা দ্বীপে যেখানে মন চায় সেখানেই তাঁবু টাঙ্গানো যাবে, জন্তু জানোয়ারের কোনো ভয় নাই, শুধু বুনো মহিষ থেকে সাবধান। সবচাইতে ভালো যায়গা হলো উঁচার বাজারের পাশের খাল পার হয়ে সাগর পাড়ের বিশাল (৫/৬ মাইল) খোলা ঘাসের মাঠটা…

৯) তেমন কিছুই নেয়া লাগবে না, সব-ই পাওয়া যাবে, এরপরও যদি কিছু লাগে তাহলে জাহাজমারা বাজারে পাওয়া যাবে।

১০) টিপস : হরিণ খাইয়েন না, হরিণ বনের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ…

আরো কিছু তথ্য:

হাতিয়া তমরদ্দী ঘাটে লঞ্চ থেকে নেমে সরাসরি ট্রলার ভাড়া করে নিঝুম দ্বীপ এর উচার বাজারে চলে যাওয়া যায়, ভাড়া ১২০০-২০০০, এছাড়া লঞ্চে মাছ তুলে দেয়ার জন্য মাছ নিয়ে ট্রলার আসে এ সময়ে নিঝুম দ্বীপ থেকে , সেই ট্রলার ঠিক করে নিঝুম দ্বীপ যাওয়া যায় এতে ঝামেলা ও কম হয়।

সংবাদটি সংরক্ষন করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন..

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...

© All rights reserved  2021 The Daily Intessar

Developed ByTheDailyIntessar
error: Content is protected !!