1. admin@thedailyintessar.com : rashedintessar :
বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ১১:০৭ অপরাহ্ন

কচি পাতার সবুজ আলোয় জীবন যেখানে প্রকৃতি: মারমেইড বিচ রিসোর্ট

জাবের হোসেন :
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

মারমেইড বিচ রিসোর্ট ঘুরে: তীরে একটি ভাঙা সাম্পান জোয়ারে জলমগ্ন। পাড়জুড়ে নারিকেল গাছের সারি বাতাসে খেলছে দোল। সঙ্গ দিচ্ছে অন্য গাছেরা। সাদা বেড কাভার, টাওয়েল রশিতে দুলছে হাওয়ার তালে। পাশেই একটি পুকুর। সেখানে মগ্ন হয়ে বসে একটি মারমেইড মূর্তি। ছনের ঘরগুলো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে গাছের ফাঁকে। মনে হয় পানির ওপর ঝুলছে। সাগর আর রেজুখালের সঙ্গমস্থল কাছেই।

মারমেইড বিচ রিসোর্ট ভ্রমণ :কতটা মুগ্ধ হলে এমন কথা বলা চলে!এই মারমেইডে আপনি যখন ঢুকবেন তার আগেই কক্সবাজারের সৌন্দর্য্য আপনাকে দখল করে নেবে। একদিকে পাহাড় রেখে সাগরের তীর ধরে, ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখতে দেখতে কে না প্রকৃতির হাতে বন্দি হতে ভালোবাসে! এই সড়ক ধরে যেতে যেতে হঠাৎ যখন আপনার বাহনটি ডান দিকে মোচড় নিয়ে সবুজে ঢাকা একটি পথ খুঁজে নেবে, তখন প্রথমেই মনে হবে ছায়া সুনিবিড় শান্তির কোনও নীরে এসেছেন।

প্রথমেই ডাবের আপ্যায়ণে এখানকার মানুষগুলো আপনাকে গ্রীস্ম-দুপুরের সেরা প্রশান্তিটুকু এনে দেবে। দখিণ হাওয়া ঝাপটা দিয়ে গা জুড়ায়ে দিলে বলবেন- আহা! এমন মধুর-মাতাল হাওয়া সাগর তীরের না হয়ে যায় না। আর তাই চোখ তুলতেই দেখবেন অদূরে অপার সমূদ্র।

মাথার ওপর ছনের আচ্ছাদন, চারিদিক খোলামেলা ঘরটিকে কুঁড়েঘর বলা যাবে না। মাঝখানে টেবিল পাতা লম্বা করে। তার চারিদিকে সাজানো চেয়ার আপনাকে বলেই দেবে কোনও এক বড় আন্তর্জাতিক মানের ডাইনিং হলেই আপনি বসে আছেন। এটা মারমেইড বিচ রিসোর্টের ডাইনিং স্পেসগুলোর একটি।

পাশেই রান্না ঘরটি ছনের ছাউনিঢাকা পথ দিয়ে আলাদা। সেপথ ধরেই খাবার আসে। খাবার মানে দেশি খাদ্য। মাছ মুরগী ভর্তা ডাল। আর কক্সবাজারের সেরা রূপচাঁদা ও শুটকি। স্বাদ ও মানে সেরা বলতেই হবে। খেয়ে কিংবা খাবার আগেই আপনি চাইলে একবার সবুজ ঘাঁষ আর কোথাও বালুমাটির মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া কংক্রিটের পথ ধরে এগুলে পেয়ে যাবেন আরেকটি বড় ঘর। চারিদিকে কোনও বেড়া নেই মাথার ওপর একই ছনের ছাউনি। তাতে আরাম বড়। এটি সম্মেলন কক্ষ। এখানে অনেক টেয়ার টেবিল পাতা। সাধারণ তবে সুসজ্জিত। এখানে এই রিসোর্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানাদি হয়।

আসলে প্রকৃতিকে নিজের করে নিয়েই গড়ে ওঠা একটি বিচ রিসোর্ট এই মারমেইড। কিছুটা দূরে গিয়ে দৃষ্টিসীমায় রেখে মারমেইডকে দেখলে মনেই হবে না এখানে কোনও স্থাপনা রয়েছে। দূর থেকে সবচেয়ে বড় করে চোখে পড়বে একটি মহাজাগতিক কচ্ছপ যেটি নাকি সবুজ পৃথিবীতে ভ্রমণে এসেছে।

মারমেইড বিচ রিসোর্টে শিল্পী রনি আহমেদের তৈরি এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় কচ্ছপমূর্তি। যা হয়তো গিনেসবুক অব ওয়ার্ল্ডে স্থান পেতে যাচ্ছে। কিন্তু শুধু কসমিক টার্টল নিয়ে কথা বলতে নয়, সব মিলিয়ে মুগ্ধ করে দেওয়া একটি বিচ রিসোর্ট মারমেইড নিয়ে বলাই এই লেখার উদ্দেশ্য। কচ্ছপ যার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ সেই কচ্ছপের পেটেও রয়েছে একটি বড় মিটিং রুম। যেখনে শ’খানেক মানুষ বসে মিটিং করতে পারবে।

সন্ধ্যার পরের মারমেইড আসলে দেখার মতোই শুধু নয় উপলব্দি করার মতো কিছু একটা হয়ে ওঠে। এটি ১৫ একর এলাকাজুড়ে তৈরি রিসোর্ট যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কতগুলো ভিলা। দেখে মনে হবে একেকটা পাতার কুটির।

এখানে প্রকৃতিতে- এলোমেলো হাওয়া বয়, সারাবেলা কথা কয়। গাছের পাতার ফাঁক গলিয়ে চেয়ে থাকে আকাশ। চাঁদখানি হয়ে থাকে নিকট কুটুম। 

কূটিরগুলো বাইরে থেকে যেমন অতি গ্রাম। ভেতরে গেলেই তেমন অতি আধুনিক। উন্নত বিশ্বমানের হোটেল কক্ষ। আয়োজনে, সুবিধায় এতটুকু কমতি নেই একেকটি ভিলায়। কিন্তু ভেতরেও এখানে ওখানে পাবেন বাংলাদেশকে। বাল্বটির ওপর বসিয়ে রাখা হয়েছে চালুনি। যার হাজার ফাঁক গলিয়ে যে মৃদুআলো ঠিকরায় তা আপনাকে স্বস্তি বিলোতেই থাকবে।

হঠাৎ কানে আসবে সাইকেলের ঘন্টির টুং টুং শব্দ। ভাববেন এখানে সাইকেলে চেপে এলো বুঝি কেউ। গ্রামের কোনও বাড়িতে কেউ এলে যেমন সাইকেলের ঘন্টি বাজায়। মারমেইডে এটাই আসলে কলিং বেল।

এমন অদ্ভুত, অভিনব শত-শত আইডিয়ায় ভরা মারমেইড। ঘরের বাইরে বাঁশের খোলের ভেতর লুকিয়ে থাকা পানির কল। সামনে চারি পাতা। তাতে ধরে রাখা পানিতে ভাসছে জবা, চাঁপা কিংবা শতাবতী ফুলের দল। পায়ে ঢালার পানিতেই এত আয়োজন।

দরজা খুললেই সমুদ্র সৈকত। আপনার চোখের জন্য এত আরামের আর কি হতে পারে। মনের জন্য ভালো করে দেওয়ার উপদান চারিদিকে এত এত ছড়িয়ে। ঘর থেকে বের হবে দোলনায় দোল খান, একটু এগিয়ে গিয়ে সাগরের আরও কাছাকাছি গিয়ে বসে পড়ুন খাটিয়ায় পাতা বিছানার ওপর কিংবা আরও এগিয়ে বিচ চেয়ারতো রয়েছেই।

এখানে এতটুকু পথেও কত বৈচিত্র, কতইনা সৌন্দর্য। ঝুলে থাকা ঝুমকো জবার পাঁপড়ি আপনার মাথার চুলে জড়িয়ে যাবে। কাঁঠাল চাঁপা নাকে গন্ধ বিলিয়ে বলবে, সমুদ্রে তীরে যাও ক্ষতি নেই। এখানেও থাকতে পারো….. সুন্দরের পসরা আমরাও সাজিয়েছি যে!

সাগরের সৌন্দর্য আর মারমেইডের প্রকৃতিমাখা আয়োজন উপভোগ করতে করতে আপনি রাত কাটিয়ে দিতে পারবেন। আর যদি কোনও কারণে আপনাকে টেনে নেয় বিছানা, তাহলে সেও দেবে পাঁচ তারকা হোটেলের আরাম।আর মৎস্যকন্যাদের দেখা পাওয়া যাবে টেবিল চেয়ারের কাঠামোয়, দেয়ালে দরজায়। হলফ করে বলতে পারি- মৎস্যকন্যার প্রেম আপনাকে টানবেই!

সংবাদটি সংরক্ষন করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন..

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...

© All rights reserved  2021 The Daily Intessar

Developed ByTheDailyIntessar
error: Content is protected !!