1. admin@thedailyintessar.com : rashedintessar :
বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ১২:০২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি : চরকুকরি মুকরি।

জাবের হোসেন :
  • Update Time : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১

জনশ্রুতি আছে, জেগে ওঠার শুরুতে জনমানবহীন এই চরটি কুকুর ও মেকুরের (ইঁদুর জাতীয় প্রাণী) একচ্ছত্র দখলে ছিল বলে এর নাম চরকুকরি মুকরি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। প্রায় ২ হাজার ১৭ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত চরকুকরি মুকরি মূলত বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে এই চরে বনায়নের কাজ শুরু হয়।

ঢালচর, পাতিলা ও কুকরি মুকরি এই তিনটি বিভক্ত চরকুকরি মুকরি রেঞ্জ। বিটগুলো ১৮টি বিচ্ছিন্ন বনের মধ্যে মূল কুকরি মুকরি বিটের অধীনে ৭টি বন হলো চরদিঘল, চরজমির, চরসাফি, চরপোটকা, চরপাতিলা, চরনিরালা ও চরবদনা। এখানকার প্রধান আকর্ষণ ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল আর প্রায় জনশূন্য পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকত। পুরো অভয়ারণ্যে কেওড়া গাছের আধিক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বনের একাংশে সুন্দরী, গেওয়া, পশুরসহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরে একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে চরকুকরি মুকরির অবস্থান। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী মোহনায় জেগে ওঠা এই চরকুকরি মুকরির সঙ্গে চরপাতিল, চরসাফি ও চরজমির মিলে গঠিত ইউনিয়নটি প্রশাসনিক কাঠামোয় ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার অন্তর্ভুক্ত হলেও তা সদর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

এখানকার জনসংখ্যা ১০ হাজারের মতো। চরের প্রায় ৫০ ভাগই জনশূন্য। কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ছোট ছোট ঘরে বেশিরভাগ মানুষ বাস করে। বর্ষা মৌসুমে প্রায় অর্ধেক স্থান জলমগ্ন থাকে। এই জলমগ্নতা থাকে মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। এই চরের আবহাওয়া আর্দ্র। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৪ হাজার মিলিমিটারের কাছাকাছি এবং গড় তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চরকুকরি মুকরির প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ মৎস্যজীবী। বাকিরা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। চরের মধ্যবর্তী কৃষি জমিতে ধান ক্ষেত প্রচুর। এর মধ্যে আমন ধানই প্রধান। এছাড়া ডাল, মরিচ এবং চীনাবাদামের মতো রবিশস্যের ফলনও যথেষ্ট ভালো। চরে বিচরণ করে নানা প্রজাতির হরিণ, মেছো বিড়াল, ধূসর সারস ও মহিষ। এর সঙ্গে বিশাল সমুদ্র পরিবেষ্টিত আর অফুরন্ত গাছপালার মায়াময় রূপ চরটিকে করে তুলেছে মোহনীয়।

বাংলাদেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও চরকুকরি মুকরি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। জীবনযাপনের আধুনিক অনুষঙ্গবিহীন চরটি আপন নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্রজুড়ে নীরবে অথচ সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে।

যাতায়াত : দেশের কোনো স্থান থেকেই চরকুকরি মুকরিতে সরাসরি যাতায়াত করার ব্যবস্থা নেই। ভোলা থেকে চরফ্যাশন হয়ে সি ট্রাক, ট্রলার অথবা নৌকায় যাওয়া যায় সেখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই অভয়ারণ্যে বেড়ানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চরকুকরি মুকরির পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

সংবাদটি সংরক্ষন করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন..

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...

© All rights reserved  2021 The Daily Intessar

Developed ByTheDailyIntessar
error: Content is protected !!