1. admin@thedailyintessar.com : rashedintessar :
সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

মা-বাবার ঝগড়া শিশুকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলে

ফাতেমা তাসনিম :
  • Update Time : বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাবা মায়ের আচরণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে একটি শিশুর ওপরে। আপনার কোনো ভুল সিদ্ধান্তের হতাশার কারণ হিসেবে আপনার সন্তানকে দোষারোপ করবেন না। বাবা-মায়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকেই শিশুর মধ্যে প্রথম শ্রদ্ধাবোধের ধারণা তৈরি হয়। অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিত যাতে সম্পর্কেরর হতাশা, অপ্রাপ্তি, অশান্তিগুলো সন্তানের বিকাশকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে না দেয়।

কথায় আছে, ‘শিশুর মন কোরা কাগজের মতো।’ কথাটির সত্যতা কতটুকু? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর কোমল মনে যে কোনো কিছুর প্রভাবই পড়ে অতি সহজে। এমনকি তার মধ্যে থাকে বাবা কিংবা মায়ের হুবহু অনুকরণ করতে চাওয়ার একটি তীব্র বাসনা। কারণ, প্রায় সময়ই বাবা-মা থাকে যে কোনো শিশুর জীবনের প্রথম আদর্শ। তাই বাবা-মায়ের আচরণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে একটি শিশুর আচরণে। দুটি মানুষ পারিবারিক, সামাজিক, আবেগীয় এবং আরও বিভিন্ন চাহিদা পূরণের কারণে একসঙ্গে থাকার ইচ্ছা পোষণ করে। তাই তারা বিয়ে নামক সমাজ ও ধর্মস্বীকৃত একটি বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ে করা এবং সন্তানের জন্মদান সেই মানুষ দুটির একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে প্যারেন্টিং অর্থাৎ শিশুর লালনপালন বেশ কঠিন একটি কাজ। এতে শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক প্রস্তুতিরও দরকার হয়। এই মানসিক প্রস্তুতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো নিজের আবেগ এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। কর্মক্ষেত্রের হতাশা, বিরক্তি, ক্লান্তি, মতের অমিল ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে যে কোনো দম্পতির মধ্যে দ্বন্দ্ব হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তবে আপনার বাড়িতে যদি একটি শিশু থাকে, বাবা কিংবা মা হিসেবে আপনার দায়িত্ব শিশুটিকে এসব ব্যাপার থেকে দূরে রাখা। ভুলেও কখনও কোনো ভুল সিদ্ধান্তের হতাশার কারণ হিসেবে আপনার সন্তানকে দোষারোপ করবেন না। খেয়াল রাখবেন তার সামনে কখনোই কোনো ব্যাপার নিয়ে কথাকাটাকাটি করবেন না। গলা তুলে কথা বলবেন না। বাবা-মায়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকেই শিশুর মধ্যে প্রথম শ্রদ্ধাবোধের ধারণা তৈরি হয়। গড়ে ওঠে তার সহনশীলতার শিক্ষাও।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ইসরাত ইমরোজ স্বর্ণা এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুর পরিবার এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার ভূমিকাই সবচেয়ে প্রকটভাবে ধরা পড়ে। যেমন ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে সে যদি ছোটবেলা থেকেই দেখে তার বাবা, তার মায়ের মতামতের কোনো গুরুত্বই দেন না, তাহলে তার মধ্যে এমন একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হতে পারে যে, নারীর মতামতের তেমন গুরুত্ব নেই। তাই সে ভবিষ্যতে তার নিজের সঙ্গী এবং কর্মক্ষেত্রে নারী সহকর্মীর মতামত হেয় করলে তা তার শৈশবের এই অভিজ্ঞতার প্রভাব হতে পারে। এ ছাড়া বাবা-মায়ের ঝগড়া, আগ্রাসন শিশুদের মধ্যে হতাশা এবং নিরাপত্তার অভাব তৈরি করে, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

কারণ বাবা-মায়ের ঝগড়া দেখতে দেখতে কোনো কোনো শিশু মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, অনেক সময় এসব শিশু বিপথে পা বাড়ায়, জড়িয়ে পড়ে মাদক গ্রহণসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে। কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে সে যদি দেখে তার বাবা মায়ের ওপর অত্যাচার করছে, তবে বাবার প্রতি তার মনে তীব্র ঘৃণা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি; যা কোনো বাবা-মেয়ের সম্পর্কের জন্য একেবারেই কাম্য নয়।

যে কোনো সম্পর্কের সমীকরণ সব সময় একই রকম থাকে না। সময় এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। দাম্পত্যের সম্পর্কে অপ্রত্যাশাজনিত হতাশার সৃষ্টি হতেই পারে। এ ছাড়া এই করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি অবস্থায় থাকতে থাকতে প্রায় সবারই মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত। মেজাজ থাকছে খিটখিটে। অল্পতে কথাকাটাকাটি হচ্ছে। তবে ঝগড়াঝাটি না করে দু’জনে মিলে আলাপ-আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। সব সময় সব বিষয়ে শুধু একজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করবেন না। দু’জনের দিকটিই বিবেচনা করুন। ধৈর্যশক্তি বাড়ানো এবং রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ঝগড়ার পরিমাণ অনেকটা কমে আসবে। ঝগড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে শিশুটিকে অন্য রুমে পাঠিয়ে দিন কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত করে দিন। আর যদি শিশুর সামনে কখনও ঝগড়া হয়েই যায় এবং সে ঝগড়াঝাটি দেখে ভয় পেয়ে নিজের মতো একটি বাজে ধারণা তৈরি করে ফেলার আগেই তাকে ডেকে দু’জনে মিলে বুঝিয়ে বলতে পারেন যে, ঝগড়া করা একেবারেই উচিত হয়নি এবং এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। কারণ, অধিকাংশ সময় বাবা-মায়ের ঝগড়ার পর শিশু ভীষণভাবে অসহায় বোধ করতে থাকে। তার মন খারাপ হয়। অনেক সময় স্কুলে গিয়ে সে তার সহপাঠীদের ওপর তার হতাশাজনিত রাগ ঝেড়ে ফেলে। ঝগড়াঝাটি, মারামারি করে। সে নিজে যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তা যেন কেউ টের না পায়। তাই সে সমবয়সীদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এসব শিশু পড়াশোনায়ও মন দিতে পারে না ঠিকমতো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়।

বাবা-মায়ের মতো ঝগড়া করে। এসব শিশু পরবর্তী সময়ে সমাজে সবার সঙ্গে ঠিকমতো মিশতে পারে না। তাদের মধ্যে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীলতার প্রবল অভাব লক্ষ্য করা যায়। তারা বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়। বাবা-মায়ের অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিত যাতে তাদের সম্পর্কের হতাশা, অপ্রাপ্তি, অশান্তি যেন তাদের সন্তানের বিকাশকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে না দেয়। এ ক্ষতি অপূরণীয়।

সংবাদটি সংরক্ষন করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন..

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...

© All rights reserved  2021 The Daily Intessar

Developed ByTheDailyIntessar
error: Content is protected !!